শেডাস-এর পুরাতন ভবন

শেডাসের জন্মকথা

১৯৯২ সালের এক শুভক্ষণে ডায়াবেটিস সমিতি গঠনের আহ্বান নিয়ে শেরপুরে আগমন করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির বিশিষ্ট সংগঠক ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবঃ) এ. আর. খান। জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতি গঠনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও পরবর্তীতে নানা কারণে বিষয়টি আর এগোয়নি। ইতিমধ্যে মরহুম খান বাহাদুর ফজলুর রহমান তনয়া বেগম রাজিয়া সামাদ শেরপুরের সেবামূলক কর্মকান্ডে নিজেকে ঘনিষ্টভাবে যুক্ত করে ফেলেছেন। পথের ধারে পড়ে থাকা অসহায় রোগীদেরকে তিনি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন এবং কখনও কখনও নিজ বাড়ীতে রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। কিছু জটিল রোগীকে নিয়ে তিনি ঢাকা-ময়মনসিংহ ছুটাছুটি করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি যখন বুঝতে পারেন এসব জটিল রোগীদের বেশীর ভাগই ঘাতক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তখন তিনি এদের চিকিৎসার জন্য বারডেমকে আকড়ে ধরেন।

বারডেম দুঃস্থ ডায়াবেটিস রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা দেখে তিনি অভিভূত হন এবং বারডেম ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির কর্মকর্তাগণের সাথে কথা বলেন। তাঁরা শেরপুরে ডায়াবেটিক সমিতি ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য উৎসাহ প্রদান করেন এবং সার্বিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সমস্যা হলো কাদের নিয়ে এমন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়া যায় এরূপ প্রশ্নে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। বহু বছর তিনি স্বামী সাহচার্যের কারণে শেরপুরের বাহিরে এমনকি দেশেরও বাহিরে ছিলেন। এখানকার বিভিন্ন মহলের সাথে তাঁর উঠাবসা বিশেষ নেই বললেই চলে।

কেবল সাংস্কৃতিক অংগনে কিছুটা বিচরণ শুরু করেছেন মাত্র। ইতিপূর্বে "উপশম হাসপাতাল" নাম দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে কাজ শুরু করার একটি শুভ প্রচেষ্টা তাঁর জটিল সামাজিক অবস্থার কারণে ব্যর্থ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি খানিকটা দমে গিয়েছেন। ইতিমধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে আমার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। তিনি বিষয়টি নিয়ে আমার সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন বেশ কয়েক দিন কয়েক রাত। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে তাঁর কাজ করার আকুতি আমাকে অভিভূত করে। তাঁর কথাবার্তা শুনে তাঁকে যথাসম্ভব বুঝে শুনেই আমার বদ্ধমূল ধারণা হলো তিনি স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে অন্তত খুবই ফিট পার্সোনালিটি। তাই জোর সমর্থন দিয়ে নেমে পড়লাম ডায়াবেটিক সমিতি ও হাসপাতাল গড়ার জন্য তিনি বললেন "এখনকার সবাইকে আমি ভালভাবে জানিনা তুমি বুঝে শুনে চিন্তা করে একটি তালিকা কর কাকে কাকে আমরা ডাকতে পারি"।

ডাকলাম এবং বুঝে শুনেই ডাকলাম। যেহেতু আমরা দুজনের একজনও ডাক্তার নই। সেজন্য ডাক্তারদের প্রাধান্য দিয়েই তালিকা করলাম। সৌভাগ্যবশতঃ শেরপুরে তখন বেশ কয়েকজন রিটায়ার্ড ডাক্তার ছিলেন। আমরা তাঁদেরকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করলাম। তাঁদের সাথে ৪/৫টি আলোচনা বৈঠক করে শেষ পর্যন্ত ০৩/১১/৯৬ তারিখের সভায় অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আলহাজ্ব ডাঃ আশকর আলী সাহেবের সভাপতিত্বে কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। বেগম রাজিয়া সামাদকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা কমিটি গঠিত হয়। অতঃপর ৩০/১১/১৯৯৭ খ্রীঃ তাং এই সমিতির ডায়াবেটিক সমিতির এফিলিয়েশন লাভ করে এবং ০৩/১১/৯৭ খ্রীঃ তাং বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে।